Home » Health Tricks » ডেঙ্গুজ্বর এর লক্ষণ এবং কীভাবে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ করবেন দেখুন।

ডেঙ্গুজ্বর এর লক্ষণ এবং কীভাবে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ করবেন দেখুন।

প্রিয় ,
আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। কারণ TrickRed.com এর সাথে থাকলে সবাই ভালো থাকে। আর আপনাদের দোয়ায় আমি ও ভালো আছি। তাই আজ নিয়ে এলাম আপনাদের জন্য আরেক টা নতুন টিপস। আর কথা বাড়াবো না কাজের কথায় আসি।

‘Dengue Fever’ বা ‘ডেঙ্গুজ্বর’ মূলত একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত সংক্রামক রোগ যা এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। এর অপর নাম ‘ব্রেকবোন ফিভার’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) একটি বিশেষ জরিপে, ডেঙ্গুজ্বরকে ২০ টি গ্রীষ্মকালীন অবহেলিত রোগের একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমনের ৪-৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের উপসর্গ দেখা যায়।

লক্ষণ


  • প্রচন্ড জ্বর, বমি, মাথাব্যথা এবং চোখে পেছনে ব্যথা। তাপমাত্রা ১০৫° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
  • হাড়, মাংসপেশি,অস্থিসন্ধিতে প্রচন্ড ব্যথা।
  • ৪-৫ দিন পর চামড়ার নিচে লালচে দানা বা Skin Rash দেখা দিতে পারে যা অনেকটা ঘামাচি কিংবা এলার্জির মতো মনে হয়।
  • রক্তে অণুচক্রিকার পরিমান কমে যেতে পারে।
  • মাঝেমাঝে চামড়ার নিচে, চোখ,নাক ও মুখ, মাড়ি ও দাঁত কিংবা পায়খানা সাথে রক্তক্ষরণ এবং রক্তবমি হয়ে রোগটি মারাত্মক আকার ধারন করে যা Dengue Hemorrhagic Fever নামে পরিচিত।
  • প্রস্রাবের পরিমান কমে যেতে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট কিংবা পেট ফুলে যাওয়া ও ব্যথা হওয়া।
  • অতিরিক্ত কান্তি বা দূর্বলতাবোধ, খাবারে অরুচি ।

চিকিৎসা


ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।মারাত্মক আকার ধারণ না করলে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ঔষধ সেবন না করলেও ২-৭ দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। তবে রক্তক্ষরণ হলে, শ্বাসকষ্ট কিংবা পেট ফুলে গেলে বা ব্যথা হলে, প্রস্রাবের পরিমান কমে গেলে, রক্তবমি হলে, রক্তে অণুচক্রিকার পরিমান কমে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের তাপমাত্রা কমাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ এবং বমি বন্ধের জন্য ঔষধ দেওয়া যায়। তবে কোনো অবস্থাতেই ব্যথা কমানোর জন্য Non-steroidal Anti Inflammatory Drug বা Diclofenac কিংবা Aspirin জাতীয় কোনো ঔষধ কিংবা এন্টিবায়োটিক দেওয়া যাবেনা। প্রচুর পরিমানে তরল এবং পানি জাতীয় খাবার যেমন: খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের জ্যুস,স্যুপ,শরবত ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। মুখে খেতে অক্ষম হলে Normal Saline IV Fluid হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। রোগীকে অবশ্যই মশারীর নিচে রাখতে হবে যাতে রোগীকে অন্যকোনো মশা কামড়াতে না পারে। কেননা, ডেঙ্গু রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে যে মশা কামড়াবে সেটা ডেঙ্গু ভাইরাস এর বাহক হয়ে যাবে এবং অন্যান্যদের এই রোগে আক্রান্ত করবে। রোগীকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম ও বিশেষ পরিচর্যায় রাখতে হবে।

প্রতিরোধ


ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হচ্ছে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ এবং মশা নিধন। এডিস ইজিপ্টাই মশা সাধারণত সন্ধ্যা বেলা এবং সকালে কামড়ায়। তাই সংক্রমন এড়াতে কয়েল, এরোসল, স্প্রে, মশারী ব্যবহার করতে হবে। এডিস মশা পরিষ্কার, স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। সুতরাং, বাড়ির চারপাশের ঝোপঝাড়, জলাশয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিত্যক্ত টায়ার, ভাঙ্গা পাত্র, ডাবের খোলস, গর্ত,টব, পরিত্যক্ত বোতল ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে যা এডিস মশার ডিম পাড়ার জন্য উপযোগী স্থান। এসব পরিত্যক্ত জিনিসপত্র যেখানে সেখানে ফেলে রেখে পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। শরীরের বেশীর ভাগ অংশ আবৃত রাখে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে। প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে হবে।
উপযুক্ত সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ডেঙ্গুজ্বরের সংক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব।অতএব, ভয়ের কোনো কারণ নেই। তাই আসুন এর প্রতিরোধ করি, নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি।

তাহলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন TrickRed.com এর সাথে থাকুন। আর এ রকম নিত্যনতুন টিপস পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

3 weeks ago (August 1, 2019) 215 Views

About Author (3)

Nishat
Administrator

Knowledge Is Divine, So Spread The Peace Of Divine To All.

6 responses to “ডেঙ্গুজ্বর এর লক্ষণ এবং কীভাবে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ করবেন দেখুন।”

  1. ArmanArman Author

    অতি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট।

  2. KamrulKamrul Author

    এই পোস্ট টি অনেক কাজে লাগলো আমার।

  3. Muntakim Administrator

    বর্তমান সময়ের জন্য বেশ দরকারী ছিলো এই কনটেন্ট।

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Categories


Back to top