Home » Uncategorized » চলে গেলেন একজন দানশীল মোজাহেদ

চলে গেলেন একজন দানশীল মোজাহেদ

চলে গেলেন একজন দানশীল মোজাহেদ . পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রা কালিকাপুর গ্রামের বর্ষীয়াণ মোজাহেদ কাজি মোদাস্সের উদ্দিন ১৮ তারিখ বিকাল ৫.০০ টায় ৯৫ বছর বয়সে এন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। তিনি বিগত তিন বছর বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন। তার দশ সন্তান। পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। তাদের মধ্যে চার মেয়ে ও দুই ছেলে হেযবুত তওহীদে যোগদান করেছেন এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। . কাজী মোদাসসের উদ্দিন হেযবুত তওহীদে যোগদান করেন ২০০৭ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে। তার কন্যা জিউন্নাহার পলির মাধ্যমেই তওহীদের আহ্বান লাভ করেন ও বিস্তারিত জানতে পারেন। তখন তার বয়স ৮২ বছর। প্রকৃত ইসলামের উপলব্ধি তাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছিল। ফলে তিনি তার সন্তানদের বললেন, তিনি আন্দোলনের কর্মসূচির ফরমে স্বাক্ষর করবেন এবং বায়াত গ্রহণ করবেন সরাসরি এমামুযযামানের সামনে বসে। . বিষয়টি মাননীয় এমামুযযামান জানতে পেরে সাদর সম্মতি প্রদান করেন। তারা ঢাকা আসলে এমামুযযামান তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন। কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে মোদাসসের সাহেব প্রকৃত ইসলামের সন্ধানে বহু দলে, বহু পীরের দরবারে গিয়েছেন। তাবলিগ জামাতের আজীবন চিল্লার ঘোষণা দিয়েছিলেন, চরমোনাই পীরের মুরিদও হয়েছেন। এমামুযযামান জানতে চাইলেন যে, সব ছেড়ে আপনি হেযবুত তওহীদে কেন যোগ দিলেন? . এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমি যতদলেই গিয়েছি তারা আমাকে কেবল ইসলামের ঘরের খুঁটির সন্ধান দিয়েছেন কিন্তু সেই ঘরে ছাদ ছিল না। ছাদ ছাড়া ঘরে থাকব কী করে? হেযবুত তওহীদ এসে আমি সেই ছাদওয়ালা পূর্ণাঙ্গ ইসলামের ঘর পেয়েছি।” তিনি রসুলাল্লাহর একটি বিখ্যাত হাদিস থেকে এই উপমাটি প্রদান করেছিলেন যেখানে রসুলাল্লাহ বলেছিলেন, ইসলাম একটি ঘরের ন্যায়। যার ভিত্তি হলো তওহীদ, খুঁটি হলো সালাত আর ছাদ হলো জেহাদ। অন্যান্য সব দল তাকে কেবল নামাজ পড়ার নসিহত করেছে। কিন্তু নামাজ তো খুঁটি। ছাদহীন খুঁটি যে অর্থহীন সেটাই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। . তাঁর এই উত্তর শুনে এমামুযযামান ভীষণভাবে উৎফুল্ল হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “আল্লাহর খাস রহমত আপনার উপর আছে বলেই আপনি এই বয়সে এসেও সত্য উপলব্ধি করতে পারলেন। এত বয়সে আল্লাহর খাস রহমত ছাড়া কেউ সারাজীবনের লালিত বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করে নতুন করে কোনো সত্যকে কবুল করতে পারে না, সেটা যত বড় সত্যই হোক।” . তিনি যখন যোগ দিলেন তখন মাননীয় এমামুযযামানের নেতৃত্বে হেজরতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হেযবুত তওহীদ। সেজন্য জন্য প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ চলছিল পুরোদমে। আল্লাহর রাস্তায় দান করার এই বিরাট সুযোগ তিনি হাতছাড়া করলেন না। তিনি তাঁর যতটুকু সহায় সম্পত্তি ও বাড়িঘর আছে, সবটুকুই আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলেন। কিন্তু এমামুযযামান তখন সেটা গ্রহণ না করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর এই নিয়ত তিনি কবুল করেন। যখন অনলাইন বালাগের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজন পড়েছিল তখন তিনি নিজের জমি বিক্রি করে পুরোটা টাকা আন্দোলনে দান করে দিয়েছিলেন। এভাবে তিনি যখনই দানের আহ্বান আসতো, তিনি তাঁর হাতে যা আছে সবটুকু দিয়ে দিতেন। এটা তিনি বারবার করেছেন। . শুধু নিজের সম্পত্তিই দান করেন নি তিনি। একজন মানুষের সারা জীবনের কামাই, সবচেয়ে বড় অর্জন তার সন্তানগুলোকে কর্মক্ষম বানিয়ে তাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছেন। এত বড় দানা আর হতে পারে না। ধন্য তার সন্তানরা যারা এমন বাবার সন্তান হতে পেরেছেন। . তিনি নিজে আশপাশের মানুষের সঙ্গে তওহীদের আলোচনা করতেন। লাঠিতে ভর দিয়ে কুঁজো হয়ে চলতেন। প্রায় দশ বছর আগে তাঁর ব্রেইন স্ট্রোক হয় এবং তারপর থেকে তাঁর মস্তিষ্কের স্বাভাবিকতা অনেকটাই হারিয়ে যায়। তিনি তার সন্তানদের সর্বাবস্থায় বালাগে উদ্বুদ্ধ করতেন। এমন কি তারা বালাগে গেলে তিনি স্বয়ং বাড়িতে থেকে তাদের জন্য খাবার রান্না করতেন। বলতেন, তোমরা বালাগে যাও, আমি রান্না করে রাখব। রান্না করার জন্য তোমাদের বাড়িতে থাকা লাগবে না। . জীবনের শেষ দিকে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁর জীবনধারণ খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তিনিও আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে পড়েন কিন্তু কোনোভাবেই তাঁর কষ্টের অবসান হচ্ছিল না। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাঁর নিজ বাড়িটি যা তিনি আল্লাহর রাস্তায় দান করার জন্য ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিলেন সেটাকে বিক্রি করে দিবেন। তিনি তাঁরই এক সন্তানের কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব করেন। পঞ্চাশ হাজার টাকায় তাঁর একজন ছেলে বাড়িটির পূর্ণ স্বত্ব বাবার কাছ থেকে ক্রয় করে নেন। তারপর ঐ টাকা পুরোটাই তিনি আন্দোলনের কাজের জন্য দান করে দেন। এর পরপরই তিনি পরপারের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রত্যক্ষ জগৎ থেকে পর্দা গ্রহণ করেন। . এন্তেকালের পর ১৬ ঘণ্টা পর তাঁকে দাফন করা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর শরীরে মৃত্যুপরবর্তী কাঠিন্য তথা রাইগর মর্টিস পরিলক্ষিত হয় নি। হাত পা ঘাড় কোমর ইত্যাদি সকল অস্থিসন্ধিগুলো ছিল সাবলীল জীবিত মানুষের মতো। এসকল দেহলক্ষণ পরীক্ষাপূর্বক ভিডিও করা হয়েছে। এ লক্ষণসমূহ থেকে আমরা বিশ্বাস করি, দাজ্জাল তথা ইহুদি খ্রিষ্টান সভ্যতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেওয়ার দরুন আল্লাহ তাঁকে শাহাদাতের সম্মান ও মর্যাদা এনায়েত করেছেন। তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের জন্য এটি এক বিরাট সান্ত্বনা। হেযবুত তওহীদের প্রত্যেক মোজাহেদ মোজাহেদার জন্য জনাব মোদাস্সের উদ্দিন চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন ইনশাল্লাহ।
6 months ago (January 5, 2020) 28 Views
Like 4 Report

About Author (1)

Arfat Rony
Author

This user may not interested to share anything with others.

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Categories


Back to top